যে কারণে স’রকারি কর্মকর্তা রেদোয়ানাকে হাসপাতালে হ’ত্যা করেন পা’ষ’ণ্ড স্বা’মী

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালের দোতলার ১১ নম্বর কেবিনে রেদওয়ানা ইসলামকে বালিশ চা’পা ও গ’লায় ওড়না পেঁ’চিয়ে শ্বা’সরো’ধ করে হ’ত্যা করে মো. দেলোয়ার হোসেন মিজান পা’লিয়ে যান দাবি করেন তিনি।

যৌতুকের জন্য টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জে’লা কালচারাল অফিসার খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামকে শ্বা’সরো’ধে হ’ত্যা করেছে স্বা’মী মো. দেলোয়ার হোসেন মিজান। শনিবার (২৭ মার্চ) রাতে এমন অভিযোগ করে মা’মলা করেছেন রেদওয়ানার ছোট ভাই খন্দকার মো. আরশাদুল আবিদ।

দেলোয়ার হোসেন মিজান পাবনা সদর উপজে’লার হেমায়েতপুর চার ভাঙ্গারিয়া গ্রামের মো. এলাহী মোল্লার ছেলে। তিনি সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ভোলা সদরের মহাজনপট্টি শাখায় কর্মরত। অন্যদিকে নি’হত রেদওয়ানা ইসলাম রংপুর সদর থানার ইসলামপুর হনুমানতলার মৃ’ত খন্দকার রফিকুল ইসলামের মে’য়ে।

নি’হতের ছোট বোন খন্দকার ফাদওয়ানা ইসলাম ও ছোট ভাই খন্দকার আরশাদুল আবিদ জানান, ২০০৪ সালে প্রথম বিয়ে করেন দেলোয়ার হোসেন মিজান। তার আরনাফ নামে ১২ বছরের একটি পুত্রস’ন্তান রয়েছে।

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখায় কর্মরত থাকাবস্থায় ২০১৯ সালের ১৮ মে রেদওয়ানা ও দেলোয়ার নিজেদের পছন্দে বিয়ে করেন। এটা ছিল উভ’য়ের দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের কিছুদিন যেতেই দেলোয়ারের আসল চেহার ফুটে ওঠে। তিনি বিভিন্ন অজুহাতে রেদওয়ানার কাছে টাকা দাবি করতেন।

চা’হিদা মতো টাকা দিতে না পারলে চলতো শা’রীরিক ও মা’নসিক নি’র্যাতন। একাধিকবার হ’ত্যার হু’মকি ও চেষ্টাও করা হয় রেদওয়ানকে। বিয়ের দুই বছরে রেদওয়ানার কাছ থেকে দেলোয়ার ১৫ লাখ টাকা নিলেও সম্প্রতি আরও ৪০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকার জন্য দেলোয়ার একটি খালি চেকে রেদওয়ানার স্বাক্ষর নিয়ে রাখেন।

এ নিয়ে স্বা’মী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় দাম্পত্য ক’লহ। এর মধ্যে রেদওয়ানা অ’ন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। সেটা দেলোয়ার মানতে পারেননি। রেদওয়ানার গ’র্ভপাত ঘটানোর চেষ্টাও করেন দেলোয়ার হোসেন মিজান।

গত সোমবার (২২ মার্চ) সকালে প্রসবব্য’থা নিয়ে রেদওয়ানা ইসলাম কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন সকাল ১০টায় সিজার অপারেশনের মাধ্যমে মে’য়ে শি’শুর জ’ন্ম দেন তিনি।

শুক্রবার (২৬ মার্চ) হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। তবে মে’য়ে অ’সুস্থ থাকায় তিনি ছুটি না নিয়ে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ১১ নম্বর কেবিনে থেকে যান।

শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালে স্বা’মী আসায় শি’শুটিকে মায়ের বুকের দু’ধ খাইয়ে রেদওয়ানার মামি খোদেজা ও মর্জিনা তিনতলায় নিয়ে যান। সাড়ে ৩টার দিকে বাচ্চাকে পুনরায় দু’ধ খাওয়ানের জন্য খোদেজা বেগম ফিরে এসে কেবিনের দরজার তালা আ’টকানো দেখেন। ডাকাডাকির পরও ভে’তর থেকে কেউ দরজা না খোলায় কর্তব্যরত সেবিকাকে তিনি বি’ষয়টি জানান। পরে অতিরিক্ত চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভে’তরে ম’রদে’হ দেখতে পান।

এদিকে রেদওয়ানার ছয়দিন ব’য়সের কন্যাস’ন্তানটি শি’শু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। শি’শুটির অবস্থা ভালো বলে কুমুদিনী হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে রোববার বাদ জোহর টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমিতে রেদওয়ানার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রংপুরে তার দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাতে দাফন করা হবে বলে তার ছোট ভাই আরশাদুল আবিদ জানিয়েছেন।

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ভোলা মহাজনপট্টি সদর শাখার ব্যবস্থাপক মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেন মিজান গত বছর মার্চ মাসে টাঙ্গাইল সদর শাখা থেকে এ শাখায় যোগদান করেন।

তার পারিবারিক ঝামেলা ছিল বলে আমাদের জানিয়েছিলেন। স্ত্রীর ডেলিভারির কথা বলে সোমবার (২২ মার্চ) তিনদিনের ছুটি নিয়ে মির্জাপুরে যান। কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তার ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

মা’মলার ত’দন্ত কর্মকর্তা ও মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান খান বলেন, ‘দাম্পত্য ক’লহের জেরেই এ হ’ত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছি। আ’সামি মিজানুর রহমানকে গ্রে’ফতারে চেষ্টা চলছে।’

মির্জাপুর থানার ভারপ্রা’প্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল হক মা’মলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘অ’ভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন মিজানকে গ্রে’ফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

About tanvir

Check Also

ভো’ট চা’ইতে গিয়ে গ;ণ’ধ;র্ষ;ণে;র শি’কার ম’হিলা প্রা’র্থী

প’টুয়াখালীর মি’র্জাগঞ্জে সংরক্ষিত এক না’রী কা’উ’ন্সিলর প্রার্থীকে (৪৫) গ;ণধ;র্ষ;ণের অ;ভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *