যৌ’তুক দিতে অস্বীকৃতি হ’ত্যার কারণ বলে দাবি পরিবারের

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জে’লা কালচারাল অফিসার খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামক শ্বা’সরো’ধে হ’ত্যার ঘ’টনায় মির্জাপুর থানায় মা’মলা করা হয়েছে। শনিবার রাতেই নি’হতের ছোট ভাই খন্দকার মো. আরশাদুল আবিদ বা’দী হয়ে রেদওয়ানার স্বা’মী মো. দেলোয়ার হোসেন মিজানকে আ’সামি করে এই মা’মলা দা’য়ের করেন।

চা’হিদামত যৌ’তুকের দাবী পূরণ করতে না পারায় সৃষ্ট দাম্পত্য ক’লহের জের ধরে এই হ’ত্যাকাণ্ডের ঘ’টনা ঘটেছে বলে মা’মলার বা’দী ও পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।

২২ মার্চ কন্যাস’ন্তান প্রসবের পর শনিবার (২৭ মার্চ) বিকেলে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালের দোতলায় ১১ নম্বর কেবিনে রেদওয়ানা ইসলামকে বালিশ চা’পা ও গ’লায় ওড়না পেচিয়ে শ্বা’সরো’ধ করে হ’ত্যা করে পা’লিয়ে যায় পা’ষ’ণ্ড স্বা’মী দেলোয়ার।

দেলোয়ার পাবনা সদর উপজে’লার হেমায়েতপুর চার ভাঙ্গারিয়া গ্রামের মো. এলাহী মোল্লার ছেলে। তিনি সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ভোলা সদরের মহাজনপট্টি শাখায় কর্মরত বলে জানা গেছে।

নি’হত রেদওয়ানা ইসলাম রংপুর সদর থানার ইসলামপুর হনুমানতলার মৃ’ত খন্দকার রফিকুল ইসলামের মে’য়ে।

রেদওয়ানার ছোট বোন খন্দকার ফাদওয়ানা ইসলাম ও ছোট ভাই খন্দকার আরশাদুল আবিদ জানান, দেলোয়ার ২০০৪ সালে প্রথম বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ১২ বছরের আরনাফ নামে এক পুত্র স’ন্তান রয়েছে। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখায় কর্মরত থাকাবস্থায় ২০১৯ সালের ১৮ মে তাদের বোন রেদওয়ানা ও দেলোয়ার নিজেদের পছন্দে বিয়ে করেন।

এটা ছিল উভ’য়ের দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের কিছুদিন যেতেই দেলোয়ার হোসেন মিজানের আসল চেহারটা ফুটে উঠে। প্রায়ই সে বিভিন্ন অজুহাতে রেদওয়ানার নিকট টাকা দাবি করত। চা’হিদামত টাকা দিতে না পারলেই চলত শারিরিক ও মা’নসিক নি’র্যাতন। বিয়ের দুই বছরে রেদওয়ানার কাছ থেকে দেলোয়ার ১৫ লাখ টাকা নিলেও সম্প্রতি আরো ৪০ লাখ টাকা দাবি করেন।

টাকার জন্য দেলোয়ার একটি ফাঁকা চেকে রেদওয়ানার স্বাক্ষর নিয়ে রাখে। এ নিয়ে স্বা’মী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় দাম্পত্য ক’লহ। এরইমধ্যে রেদওয়ানার অ’ন্তঃসত্ত্বা হওয়াটা দেলোয়ার মানতে পারেনি। যে কারণে রেদওয়ানার গ’র্ভপাত ঘটানোর চেষ্টাও করে স্বা’মী দেলোয়ার।

সোমবার (২২ মার্চ) সকালে প্রসব ব্যাথা নিয়ে রেদওয়ানা ইসলাম কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন সকাল ১০টায় সিজারিয়ান অপারেশনের মধ্যেমে তিনি একটি মে’য়ে শি’শুর জ’ন্ম দেন।

শুক্রবার (২৬মার্চ) হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। তবে মে’য়ে কিছুটা অ’সুস্থ থাকায় তিনি ছুটি না নিয়ে হাসপাতালের দু’তলার ১১ নম্বর কেবিনে থেকে যান। আর শি’শুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের তিনতলায় থাকা ইনকিবিউটরে রাখা হয়।

রেদওয়ানা ইসলামকে দেখভালের জন্য স’ঙ্গে থাকা তার মামী খোদেজা বেগম ও তার শি’শু স’ন্তানের দেখভালের জন্য মর্জিনা বেগম কাছে থাকতেন। শনিবার দুপুরে স্বা’মী আসায় শি’শুটিকে মায়ের বুকের দু’ধ খাইয়ে খোদেজা ও মর্জিনা পুনরায় তিনতলায় নিয়ে যান। সাড়ে তিনটার দিকে বাচ্চাকে পুনরায় দু’ধ খাওয়ানের জন্য খোদেজা বেগম ফিরে এসে কেবিনের দরজার তালা আ’টকানো দেখেন।

ডাকাডাকির পরও ভে’তর থেকে কেউ দরজা না খোলায় কর্তব্যরত সেবিকাকে তিনি বি’ষয়টি জানান। পরে কেবিনটির ই’নচার্জ সেবিকা অনুরাধা এসে দরজা অতিরিক্ত চাবি দিয়ে খুলে ভে’তরে ঢুকে ম’রদে’হ দেখতে পান।

এদিকে রেদওয়ার প্রসব করা ছয়দিন ব’য়সের কন্যাস’ন্তানটি শি’শু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধী রয়েছে। শি’শুটির অবস্থা ভাল রয়েছে বলে কুমুদিনী হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

অপরদিকে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে রেদওয়ানার ম’য়নাত’দন্ত শেষে টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমীতে রবিবার বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার ম’রদে’হ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। রংপুরে তার দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাতে দাফন করা হয়েছে।

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ভোলা মহাজনপট্রি সদর শাখার শাখা ব্যবস্থাপক মো. জামাল হোসেনের স’ঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, দেলায়ার হোসেন মিজান গত বছর মার্চ মাসে টাঙ্গাইল সদর শাখা থেকে আমার শাখায় যোগদান করেন।

তার পারিবারিক ঝামেলা ছিল বলে আমাদের জানিয়েছিলেন। স্ত্রীর ডেলিভারির কথা বলে ২২ মার্চ তিনদিনের ছুটি নিয়ে মির্জাপুরে যান। আজ কর্মস্থলে যোগদানের কথা থাকলেও আসেননি। কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তার ঠিকানায় পত্র পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ মা’মলার ত’দন্ত কর্মকর্তা ও মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান খান বলেন, এ ঘ’টনায় নি’হতের স্বা’মী মিজান প’লাতক রয়েছেন। তাকে গ্রে’প্তারের চেষ্টা চলছে। ম’য়নাত’দন্ত শেষে নি’হতের লা’শ পরিবারের কাছে হন্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তাদের স্বা’মী-স্ত্রীর মধ্যে ক’লহ ছিল। বি’রোধ মিমাংসা করতে জে’লা কর্মকর্তারা একটি উদ্যোগও নিয়েছিলেন। সেই ক’লহের জের ধরেই এ হ’ত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছি। আ’সামি মিজানুর রহমানকে ধরতে আমরা জো’র প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

মির্জাপুর থানার অফিসার ই’নচার্জ মো. রিজাউল হক বলেন, শনিবার রাতে নি’হতের ছোট ভাই বা’দী হয়ে মা’মলা দা’য়ের করেছেন। ঘা’তক দেলোয়ার হোসেন মিজানকে গ্রে’প্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

About tanvir

Check Also

ভো’ট চা’ইতে গিয়ে গ;ণ’ধ;র্ষ;ণে;র শি’কার ম’হিলা প্রা’র্থী

প’টুয়াখালীর মি’র্জাগঞ্জে সংরক্ষিত এক না’রী কা’উ’ন্সিলর প্রার্থীকে (৪৫) গ;ণধ;র্ষ;ণের অ;ভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *