Breaking News

বাবার যৌ’ন হ’য়রানি থেকে বাঁচতে আ’দালতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুই মে’য়ে

নুরজাহান (২০) ও মেহেরজান (দুটোই ছদ্মনাম) দুই বোন। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মায়ের কাছেই শৈশব কাটে। বহুক’ষ্টে পড়ার খরচ চা’লিয়ে দুই বোনকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ‍উঠিয়েছেন মা। এরপর পড়ার তাগিদে বা’ধ্য হয়ে তারা ওঠে বাবার নতুন সংসারে।

চোখে স্বপ্ন, এবার পড়াশোনাটা চা’লিয়ে যেতে পারবে অন্তত। কিন্তু বিধিবাম! নিজের বাবার কারণেই এখন সবচেয়ে অনিরাপদ তারা। বাবার বি’রুদ্ধেই করতে হলো মা’মলা। তাতেও কাজ হয়নি। বাবা আছেন নিশ্চিন্তে। অন্যদিকে, মা’মলা করে উল্টো দুই বোনকেই এখন আ’দালতে হাজির হতে হচ্ছে নিয়মিত।

রাজধানী তেজগাঁওয়ের পূর্ব রাজারবাজার এলাকার ওমর ফারুক (৬০) পেশায় একজন দলিল লেখক। মে’য়েরা শি’শুব’য়সী থাকেতই তাদের মায়ের স’ঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে ওমর ফারুকের।

এরপর মায়ের কাছে নানাবাড়িতে বড় হয় নুরজাহান ও মেহেরজান। আত্মীয়দের দেওয়া সহযোগিতায় দুই মে’য়ের পড়াশোনা চা’লিয়েছেন মা। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে এখন একজন পড়ছে বেস’রকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে। অন্যজন ইংরেজিতে অনার্স পড়ছে।

স্ত্রীর স’ঙ্গে বিচ্ছেদ সত্ত্বেও মাঝে মাঝে নোয়াখালীতে গিয়ে দুই মে’য়েকে কিছু টাকা দিয়ে আসতেন ওমর ফারুক। বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পর দুই বোন রাজধানীর ফার্মগেটের একটি বাসায় বাড়া থাকতে শুরু করে। এসময় বাবার স’ঙ্গে যোগাযোগ ছিল তাদের। পড়াশোনার খরচ চালাবেন বলে ২০২০ সালের লকডাউনের মধ্যে দুই মে’য়েকে নিজ বাসায় উঠতে বলেন ওমর ফারুক। একই বছরের আগস্টে সৎ মায়ের সংসারে আশ্রয় নেয় ওমর ফারুকের দুই মে’য়ে।

বাবার নতুন সংসারে প্রথম কয়েকদিন খুব স্বাচ্ছ্যন্দেই কাটছিল দুই বোনের। কিছুদিন যেতেই বাবার আচরণ দুই বোনের কাছে আ’পত্তিকর ঠেকতে থাকে। দুই বোনের অভিযোগ- ওমর ফারুক তার মোবাইলে লাউডস্পিকার দিয়ে পর্নো ভিডিও দেখতেন এবং তাদের অ’নৈতিক ইশারা-ইঙ্গিত করতেন। তাই বা’ধ্য হয়েই বাবাকে সতর্ক করেন বড় মে’য়ে। জবাবে ওমর ফারুক তার বড় মে’য়েকে বলেন- ‘তোরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িস আর এসব বুঝিস না?’

এসব ঘ’টনা দুই বোন তাদের ফুপুদের জানায়। বি’ষয়টি ‘সহ্য করতে’ এবং ‘পরে সব মিটমাট হবে’ বলে আশ্বাস দেন তারা। যে কারণে নিজের মাকেও কিছু জানায়নি দুই বোন।

এদিকে ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর বড় মে’য়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি চাইলে ওমর ফারুক জানান, ‘আমি যে টাকা দেবো, তাতে আমার লাভ কী? তোমরা আমার কাছে আসো, আমি সব দেবো।’

এরপর ওমর ফারুক তার বড় মে’য়েকে বলে, ‘আমার স’ঙ্গে ফ্রি হও, যা করতে বলি তাই করো, তোমার কোনও অভাব রাখবো না। তোমার নামে ফ্লাট লিখে দেবো। কাছে না আসলে কিছুই দিতে পারবো না।’

ঘ’টনার শি’কার ছোট বোন বলেন, ‘বাবা হয়েও মানুষ কিভাবে এসব কথা বলতে পারে! তার (ওমর ফারুক) কথা শোনার পর বড় আপা আত্মহ’ত্যা করতে গিয়েছিল একবার। আমি তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সব জানতে পারি। এরপর তাকে (ওমর ফারুক) পু’লিশের ভ’য় দেখালে কয়েকদিন আপাকে আর বির’ক্ত করেনি।’

সেদিনের ঘ’টনার কয়েকদিন পর ওমর ফারুক আবার বলেন, ‘তোর মায়ের স’ঙ্গে আমার কোনও সম্প’র্ক নেই। তাই তোরা আমার জন্য বৈধ।’

বড় বোন বলেন, “ততদিনে ফুপুরাও আমাদের বি’রুদ্ধে চলে যাচ্ছিলেন। তার (ওমর ফারুক) স’ঙ্গে মিলিয়ে আমাদের নিয়ে অনেক কুৎসাও তারা রটিয়েছেন। এসব কথা বললেও কেউ বিশ্বাস করবে না জানি। তাই শেষ দিকে তার কিছু অ’নৈতিক আচরণের কথা রেকর্ড করেছি। যা প্রমাণ হিসেবে আমাদের কাছে আছে। ফুপারা কিন্তু অনেক ভালো।

কিন্তু কাউকে কিছু জানাতে দেয়নি ফুপুরা। ঘ’টনার মীমাংসার কথা বলে বাবা আর আমাদের নিয়ে দরজা বন্ধ করে আলোচনাও করেছেন তারা। তখন বাবা বলেছে, আমরা নাকি তার সম্পত্তি নেওয়ার পরিকল্পনা করে এখানে এসেছি। এ কথা বলে কয়েকবার মা’রতেও এসেছে। তখন ফুপুরা বলেছে- ‘ভাই, দোষ আপনার না, ওদেরও (দুই বোন) না। দোষ হলো শয়তানের।’

এরপর জো’র করে আমাদের দুই বোনের কাছ থেকে সাদা কাগজে সই নেন তারা। সবার আচরণ দেখে প্রচণ্ড মা’নসিক য’ন্ত্রণায় ভুগছিলাম। তাই বা’ধ্য হয়ে সেদিন দুই বোন ওই বাসা থেকে বেরিয়ে আবার ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করি।”

বাসা থেকে বেরিয়েও নিস্তার মেলেনি। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ওমর ফারুক প্রায় রাত ১২টার সময় নুরজাহানকে ফোন করে বলেন, ‘আমাকে কিছু দিলি না। এখন বাঁচবি কী করে?’

ফলে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে মাকে সব খুলে বলে দুই বোন। এরপর নিজেদের নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন ব্যয়ভার গোছাতে না পেরে আশ্রয় নেন এক নিকটাত্মীয়ের বাসায়।

একইস’ঙ্গে ফোনে পাওয়া হু’মকি, লোকলজ্জা, আর্থিক, যৌ*aন ও মা’নসিক অ’ত্যাচারের শি’কার দুই বোন দ্বারস্থ হন আ’দালতের। বড়বোন বাদি হয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যা’জিস্ট্রেট আ’দালতে পারিবারিক সুরক্ষা আইনের ৩, ৭, ১১ ও ১৩ ধারায় ওমর ফারুকের বি’রুদ্ধে মা’মলা দা’য়ের করেন।

মা’মলায় দুই বোনের ভরণপোষণের খরচ প্রদানের পাশাপাশি ওমর ফারুক যেন তাদের মা’নসিক ও যৌ*aন অ’ত্যাচার এবং অ’শ্লীল প্রস্তাব দিতে না পারে সেজন্য তার গ্রে’ফতার চেয়ে আ’দালতের কাছে আরজি জানানো হয়।

দুই বোনের আইনজীবী ইমরুল হাসান বলেন, ‘মা’মলা দা’য়েরের পর ওমর ফারুককে শো’কজ করেছেন আ’দালত। কিন্তু কয়েকদফা তারিখ পড়লেও এখন পর্যন্ত তিনি আ’দালতে হাজির হননি।

উক্ত আইনের ১১(২) ধারা বিধান অনুসারে সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে মা’মলার তারিখ নির্ধারণ করতে হয়। অথচ আইনের সুস্পষ্ট বিধান সত্ত্বেও আ’দালত কোনওরকম অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ না দিয়ে মা’মলাটি শুনতে দীর্ঘদিন পর পর দিন নির্ধারণ করছেন। তাই মে’য়ে দুটোকেও নিরুপায় হয়ে বারবার আ’দালতে হাজির হতে হচ্ছে।’

দুই বোন জানায়, ‘জীবনটা জলে থেকে কুমিরের স’ঙ্গে বসবাসের মতো লাগছে। প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এর মধ্যেই বারবার আ’দালতে হাজির হতে হচ্ছে। জানি না কবে ন্যায়বিচার পাবো।’

ঘ’টনা সম্প’র্কে জানতে ওমর ফারুকের স’ঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

About admin

Check Also

পেট চা’লানোর জন্য বিক্রি করেছেন বাড়ির ভিটা, তবুও ব’য়স্কভাতা কার্ড পাননি ৯৮ বছরের বৃ’দ্ধা

আমেনা বেগমের (৯৮) ব’য়স একশ ছুঁইছুঁই। এই ব’য়সে তিনি কানে একেবারেই শুনতে পান না। চোখে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *