দিন-রাত পাপ ক’র্মে ডুবে আছে কু’খ্যাত এক দ্বীপ

লেক ভিক্টোরিয়ায় ভাসছে কু’খ্যাত এক দ্বীপ। নাম তার রেম্বা। যেখানে যৌ’নক’র্মী , মা’দক ও ম’দের এক স্বর্গরাজ্য। রেম্বা দ্বীপের টিনের চালের বাড়িগুলো দিনে দুইবার ভাড়া দেয়া হয়।

পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম হ্রদ লেক ভিক্টোরিয়ায় ছ’ড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রায় তিন হাজার দ্বীপ। এগুলোর মধ্যে অনেক দ্বীপেই আছে জনবসতি। এই হ্রদ থেকে মাছ শি’কার করেই চলে এসব জনবসতির জীবন। এসব যাযাবর মানুষদের নেই নিজস্ব বাড়ি-ঘর। আজ এই দ্বীপ, তো কাল ওই দ্বীপে ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়ায় তারা।

লেক ভিক্টোরিয়ার হাজারো দ্বীপের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে রেম্বা। কু’খ্যাত ও বিত’র্কিত এই রেম্বা দ্বীপে চলে নানা অসামাজিক ক’র্মকাণ্ড। যৌ’নক’র্মী , আফ্রিকার কু’খ্যাত অ’পরাধী, ড্রাগ পা’চারকারীদের গা ঢাকা দেয়ার শী’র্ষস্থান হলো এই রেম্বা আইল্যান্ড। মাত্র দুই হাজার বর্গ মিটারের এই দ্বীপের জনসংখ্যা ২০০৯ সালে ছিল মাত্র ১৩১ জন।

তবে এর বর্তমান জনসংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি। রেম্বা নামক ক্ষুদ্র দ্বীপটি যেন আরেক ছোট্ট আফ্রিকা। সেখানে রয়েছে আফ্রিকার সব দেশেরই মানুষ। ছোট্ট এই দ্বীপে নেই পা ফেলার জায়গা। গিজগিজ করছে মানুষ। এইটুকু দ্বীপে গায়ে গায়ে ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছে করো’গেটেড টিনের চালাঘর।

রেম্বাতে স্বা’স্থ্য ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কথা কেউ ভাবেন না। দ্বীপের চারদিকে আবর্জনার স্তূ’প। দ্বীপটির চারপাশে মলমূ’ত্র থেকে শুরু করে ব্যবহৃত স্যানিটারি প্যাড, কন্ডোম, ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ ও সুঁচ প’ড়ে থাকে। সেই স’ঙ্গে মাছ প’চা গন্ধ তো রয়েছেই। অ’বাক করা বি’ষয় হলো, এই পরিবেশেই বাস করছে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

রেম্বা দ্বীপের টিনের ছাউনি দেয়া বাড়িগুলো প্রতিদিন দুইবার ভাড়া দেয়া হয়। ঘরগুলো দিনে একজন ও রাতে আরেকজন ভাড়া নেয়। যারা রাতে মাছ ধ’রেন, দিনের জন্য ঘর ভাড়া নেন।

কেউ দিনে মাছ ধ’রলে ঘর ভাড়া নেন রাতটুকুর জন্যই। ভাড়া ১২০০ থেকে ছয় হাজার টাকা। এই বাড়িগুলোকে বলে উসিসেমে। কিছু বাড়ি যৌ’নক’র্মী রা ভাড়া নিয়ে রাখেন। তাদের ব্যবসা চা’লানোর জন্য। প্রতিদিন ভোরে এই দ্বীপ থেকে ২০০ মানুষ বের হয়ে যায় আর ৪৯০ জন নতুন মানুষ ঢোকেন।

আপনার চোখ কপালে উঠবে এদের পয়ঃনিষ্কাষণ ব্যব’স্থার কথা জানলে! ২০ হাজার মানুষের জন্য দ্বীপে আছে মাত্র চারটি পাবলিক টয়লেট। মাটির ভে’তরে করা গর্ত আর চার দিকে বেড়া এটাই টয়লেট।

দ্বীপে কয়েকটি ও’ষুধের দোকান রয়েছে। আর দোকানগুলো চা’লায় হাতুরে ডাক্তারেরা। ভু’ল ও’ষুধে শি’শুর মৃ’ত্যু সেখানকার নৈমিত্তিক ঘ’টনা। বেশিরভাগ দোকানই মা’দকজাতীয় ট্যাবলেট, অন্যান্য ও’ষুধ ও কন্ডোম দিয়ে ঠাসা। যৌ’নরো’গ ও এইডস দ্রু’ত ছড়াচ্ছে দ্বীপটিতে, তবুও তাদের নেই কোনো মাথা ব্য’থা!

এই দুই হাজার বর্গমিটার দ্বীপের মধ্যে আছে, মাছের আড়ত, একটি গির্জা, একটি মসজিদ, জু’য়ার অসংখ্য কাউন্টার, ম’দ ও ড্রাগের পাব, সেলুন, ও’ষুধের দোকান, খাবার হোটেল ও হাজার তিনেক যৌ’নক’র্মী । চলে জু’য়া খেলার প্রতিযোগিতা, লোকে এখানে যেমন আমির হয়, তেমনি ফকিরও হয়। এখানে দে’হব্যবসা বেআ’ইনি নয়।

সারাদিন মাছ শি’কার করে লেকের চারদিক থেকে এসে ভিড়ে মাছ ভর্তি নৌকো। সেই মাছগুলো রেম্বা দ্বীপের আড়তে বেচে মৎস্যজীবীরা। মাছ বেচা টাকা দিয়ে প’তিতা স’ঙ্গ করে বা সেই টাকা ড্রাগ ও ম’দে উড়িয়ে পরদিন আবার নৌকা নিয়ে জলে নামেন হাজারো মৎস্যজীবী।

একজন যৌ’নক’র্মী দিনে ভারতীয় মুদ্রায় পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করেন। দ্বীপে ব্যাঙ্ক নেই, তাই যৌ’নক’র্মী রা টাকা রাখতে বা’ধ্য হন নিজে’র পোশাকের মধ্যে। কখনো সেই টাকা অন্যজন কেড়ে নেয়। তাই কয়েক সপ্তাহ পরপরই টাকাকড়ি লুকিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যান অনেক যৌ’নক’র্মী । স’ঙ্গে করে বয়ে নিয়ে যান যৌ’ন রো’গ।

রেম্বা দ্বীপের ওইসব টিনের ঘরে মেলে বিভিন্ন ব’য়সের যৌ’নক’র্মী দের। জায়গা না থাকায় একই ঘরে ১০ থেকে ১২ জন যৌ’নক’র্মী একই স’ঙ্গে যৌ’নক’র্মে লি’প্ত হন। অন্যদিকে ঘরের বাইরে অপেক্ষায় থাকেন আরো খদ্দেররা। যৌ’নক’র্মী দের শি’শুরা রাস্তায় খেলে বেড়ায়, অপরিচিত লোকদের হাতে যৌ’ন নিগ্রহের শি’কার হয়, আর টিনের ঘরে যৌ’নশোষিত হয় তাদের মায়েরা।

কু’খ্যাত রেম্বা দ্বীপে রয়েছে আবার পু’লিশও, তাদের সংখ্যা মাত্র নয় জন। এই কয়জন পু’লিশের পক্ষে তো আর ২০ হাজার মানুষকে সামলানো সম্ভব নয়। এই দ্বীপের প্র’ভাবশালী ব্যবসায়ীরা কেনিয়ার মাসাইদের (দ্বীপের ক্ষ’মতাশীল সে’নাবা’হিনী ) পয়সা দিয়ে পোষেন। অ’পরাধ করে আ’ইনের হাত এড়িয়ে রেম্বাতে লুকিয়ে থাকেন এসব প্র’ভাবশালীরা। আর রেম্বা থেকে জলপথে পার্শ্ববর্তী যে কোনো দেশে পা’লিয়ে যাওয়া অত্যন্ত সহজ। তাই রেম্বা দ্বীপ দু’র্বল প্রশা’সনের আওতায় থেকে হয়েছে কু’খ্যাত।

About tanvir

Check Also

যেভাবে ভেস্তে গেল বিএনপির উদ্যোগ!

২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে দূরে ঠেলতে বিএনপির একটি অংশ অনেকদূর অগ্রসর হলেই দলের অন্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *