ফুটপাতের খাবার বিক্রেতা সেই মে’য়েটিই আজ সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতি

জ’ন্মসূত্রে ভা’রতীয় বংশোদ্ভূ’ত হলেও বাবা মু’সলিম আর মা মালয়। ১৯৫৪ সালে জ’ন্ম নেয়া তার ব’য়স যখন আট’ তখন তার বাবা মা’রা যায়। বাবার মৃ’’ত্যুর পর অ’স’হায় মায়ের সাথে ফুটপাথে খাবার ‘বিক্রি ক’রতেন তিনি।

সেইসাথে পাশাপাশি চা’লিয়ে গেছেন পড়াশোনাটাও। রোজ স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তার দায়িত্ব ছিলো দোকান পরি’ষ্কার করার, বাসনপত্র ধুয়ে দেয়ার এবং টেবিল পরি’ষ্কার করা। তাছাড়া ক্রেতাদের মধ্যে খাবার পরিবেশন ছাড়াও আরো অনেক কাজে মা’কে সহযোগীতা করা।’

বলছিলাম সিঙ্গাপুরের বর্তমান রা’ষ্ট্রপতি হালিমা ইয়াকুবের কথা। পুরো নাম হালিমা বিনতে ইয়াকুব।পরিবারের পাঁচ ভাইবোনসহ দারিদ্র্যের সাথে যু’’দ্ধ করে একসময় পড়াশোনা শেষও করেন। এরপর শুরু করেন আ’ইনজীবী হিসেবে তার শখের আর স্বপ্নের পেশা।

এসব কিছুই হয়তো আমা’দের চারপাশের অহরহ ঘ’টনার একটা। কতজনকেই আম’রা এরচেয়েও খা’রাপভাবে জীবন যাপন ক’রতে দেখে থাকি, ক’ঠোর পরিশ্রম করে জীবনে উন্নতি ক’রতে দেখি। কিন্তু অন্য সবার চেয়ে ব্য’তিক্রম হালিমা।

ভা’রতীয় মু’সলমান বাবা এবং মালয়েশিয়ান মায়ের ঘরে জ’ন্ম নেওয়া কন্যা স’ন্তান হালিমা ইয়াকুব। আর মু’সলিম’রা যেহেতু বাবা বা পিতার বংশের হিসেবে বংশ পরম্পরা বিবেচনা করে সেহেতু হালিমা ভা’রতীয় বংশোদ্ভূ’ত মু’সলিম না’রী। কুইন স্ট্রিটে ১৯৫৪ সালের ২৩ আগস্ট তার জ’ন্ম। পরিবারের পাঁচ স’ন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ হালিমা।

তার বাবা ইয়াকুব ছিলেন একজন পাহারাদার এবং বহু বছর ধ’রে অ’সু’স্থতায় ভুগছিলেন। ১৯৬২ সালে তার বাবা মা’রা যান। বাবার মৃ’’ত্যুর পর সংসার সাম’লাতে তার মাকে অমান’বিক পরিশ্রম ক’রতে হয়েছে। তার মা রাস্তার পাশের একটি খাবারের দোকানে কাজ করতো। প্রতিদিন সকাল ৪টায় যেতো আর বাড়ি ফিরতো রাত ১০টায়। হালিমা মায়ের সাথে সেই দোকানেই কাজ করতো।

এভাবেই জীবনযু’’দ্ধে শ’ক্ত মনোবল ধ’রে রেখে ১৯৭০ সালে তানজং ক্যানটং গার্লস স্কুল মাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষ করেন। পরে সিঙ্গাপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আ’ইন বি’ষয়ে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি সম্পন্ন করেন হালিমা। নানা ক’’ষ্ট এবং স’মস্যা আর ভোগান্তিকে নিত্যস’ঙ্গী করে হালিমা’র এই সময়গু’লো কে’টেছে।

হালিমা তার এক বক্তৃতায় বলেছেন, ‘জীবনের এই মা’রাত্মক খা’রাপ সময়গু’লোতে অনেকবার আ’ত্মহ’’ত্যা করার সি’দ্ধা’ন্ত নিয়েছি। কিন্তু যখন ভেবেছি যে আমি একজন মু’সলিম তখন আবার ফি’রে এসেছি সে সি’দ্ধা’ন্ত থেকে। আবার নতুন করে জীবন সাজাতে শুরু করেছি’।

১৯৭৮ সালে ন্যাশনাল ট্রে’ডস ইউনিয়ন কংগ্রে’সে (এনটিইউসি) একজন আ’ইন ক’র্মক’র্তা হিসেবে যোগ দেন। তার রাজনৈতিক জীবন শুর হয় ক্ষ’মতাসীন দল পিপলস অ্যা’কশন পার্টির ক’র্মী হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে। ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গোহ চোক টংয়ের অনুরো’ধে রাজনীতিতে আসেন হালিমা। এরপর ধা’রাবাহিকভাবে ৪টি সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করেন তিনি।

২০১১ সালে সামাজিক উন্নয়ন, যুব ও ক্রীড়া ম’ন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযু’ক্ত হন। এরপর ২০১৩ সালে সিঙ্গাপুরের সং’সদে প্রথম না’রী স্পিকার নিযু’ক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় চলে আসেন এবং পরিচিতি অর্জন করেন।

২০১৭ সালে প্রে’সিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার জন্য স্পিকার পদ থেকে ইস্তফা দেন। প্রার্থী হওয়ার বিধান অনুসারে পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে হালিমা’র অ’ভিজ্ঞতা থাকায় তিনি সরাসরি বৈ’ধ প্রে’সিডেন্ট পদপ্রার্থী হন।রা’ষ্ট্রপতি নির্বাচনের একমাত্র বৈ’ধ প্রার্থী হওয়ায় তাকেই প্রে’সিডেন্ট হিসেবে ঘো’ষণা করেন দেশটির প্রধান নির্বাচনী ক’র্মক’র্তা।

মালয় সম্প্রদায় থেকে সিঙ্গাপুরের প্রে’সিডেন্ট হওয়া শেষ ব্য’ক্তি ছিলেন ইউসুফ ইসহাক। সিঙ্গাপুরের ব্যাংক নোটগু’লোতে তার ছবি আছে। ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির প্রে’সিডেন্ট ছিলেন।

দীর্ঘদিন যাব’ত সিঙ্গাপুরে অব’স্থানকারী এবং সিঙ্গাপুরের রাজনীতির সাথে বহুকাল ধ’রে জ’ড়িত এই না’রীকে নিয়ে কূটনৈতিকপাড়াসহ বিশ্বমোঘলদের টেবিল ছিলো আলোচনামূখর। প্রশ্ন একটাই- কে এই হিজাবি মু’সলিম না’রী হালিমা? কী’ তার নেপথ্য পরিচয়? এবং কী’ভাবেই বা আজকের এই অব’স্থানে অধিষ্ঠিত তিনি?

প্রশ্নকারীরাসহ মু’সলিম-অমু’সলিম নির্বিশেষ হালিমা ইয়াকুবের জীবনীত’থ্য জা’না প্রয়োজন। শিক্ষণীয় এবং উৎসাহ জাগানিয়া অনেক ত’থ্য রয়েছে তার জীবন ধা’রায়। সামান্য একটি দরি’দ্র পরিবার থেকে একটি দেশের সর্বো’চ্চ সম্মানিত স্থানে অধিষ্ঠিত হওয়ার নানা নেপথ্য কথন রয়েছে এই জীবনে। রয়েছে ঘা’ত-প্রতিঘা’ত আর স’মস্যা সঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়ে চলা অটল অ’স্তিত্বের অধিকারীনী একজন না’রীর পরিচয়।

ক’র্মময় জীবনের ক’র্ম’দক্ষ’তার স্বীকৃতি স্বরুপ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও অ্যাওয়ার্ড অর্জন ক’রেছেন হালিমা ইয়াকুব। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো- ২০০১ সালে তিনি the Berita Harian/McDonald’s Achiever পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৩ সালে Her World Woman of the Year Award অর্জন করেন। এছাড়া ২০১১ সালে প্রা’প্ত হন The AWARE Heroine Award।

About tanvir

Check Also

যেভাবে ভেস্তে গেল বিএনপির উদ্যোগ!

২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে দূরে ঠেলতে বিএনপির একটি অংশ অনেকদূর অগ্রসর হলেই দলের অন্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *