ঢামেকের ক’রোনার আইসিইউ ইউনিটে আ’গুন, মাকে ঘাড়ে তুলে দৌড় দিয়েছি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে আসা রোগী মমেনা বেগম ওই সময় পোস্ট সিসিআইতে ভর্তি ছিলেন। তিনি আ’গুনের খবর পাওয়া মাত্র উঠার চেষ্টা করেন কিন্তু পারছিলেন না। ওই সময় তার কক্ষের বাহিরে ছেলে জায়েদুল অবস্থান করছিলেন।

তিনি আ’গুনের খবর শুনে দ্রু’ত ছুটে আসেন। তার মাকে কোলে ও ঘাড়ে করে নিয়ে একাই পাঁচতলায় তোলেন। জায়েদুল বলেন, ভাগ্যিস রুমের বাহিরেই ছিলাম। আ’গুন আ’গুন শোনামাত্র রুমে ঢুকে মাকে ঘাড়ে তুলে দ্রু’ত বের হয়ে আসি।

আমার বাবাই শুধু বের হতে পারেনি: আ’গুন লাগার সময় ভেততে প্রবেশ করতে না দেয়ায় রোগী কাজী গোলাম মোস্তফাকে বাঁচানো যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তার ছেলে ও মেয়ে। এসময় মৃ’ত মোস্তফার মেয়ে কাজী রাবু থাকেন, সকালে আ’গুন লাগার সময় আমি হাসপাতালেই ছিলাম।

অনেকেই যার যার রোগী নিয়ে বের হয়ে যায়। কিন্তু আমার বাবাই শুধু বের হতে পারেনি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আমার বাবাকে মৃ’ত অবস্থায় উ’দ্ধার করে। বাবাকে সিসিইউতে নিলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি।

সবাই ভে’তরে ঢুকে যার যার রোগী বের করে নিয়ে আসলেও আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমার বাবাকে এরা মে’রে ফেলছে। মাত্র ৫-১০ মিনিট সময় পেলে বাবাকে বাঁচাতে পারতাম কিন্তু তারা আমাকে ঢুকতে দিল না।

রোগীর স্বজনদের যতো অভিযোগ: ঢামেকের কর্মচারীদের নিজে নিজে আ’গুন নেভানোর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি বলেও স্বজনদের অভিযোগ। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, আ’গুনের সময় আইসিআইতে কর্মরত নার্স ও চিকিৎসকরা পালিয়ে গিয়েছিলেন।

তারা তাদের কোন ধরনের দায়িত্ব পালন করেননি। এমনকি প্রতিটি রোগীকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে তারা কোন প্রকার ক’ষ্টও করেননি। উল্টো রোগীর স্বজনদের দিয়েই রোগীকে অন্যত্র নিয়েছেন।

আ’গুন লাগলে ডাক্তার-নার্স, ওয়ার্ড বয় সবাই বের হয়ে যায়। যেসব রোগীর স্বজন ভে’তরে ছিল তারাই তাদের রোগীদের কোলে এবং কাঁধে করে বের করেন। পাশে কোনো হুইল চেয়ার বা ট্রলি ছিল না। আইসিইউতে থাকা এক রোগীর রাফিয়া নামে এক স্বজন জানান, তারা তার বাবাকে বের করে আনার সময় কোন নার্সকে খুঁজে পাইনি।

ঢামেক কর্তৃপক্ষ যা বললেন: এ ঘ’টনায় কেউ আ’গুনে মা’রা যাননি। তাদের স্থানান্তরের পর অনাকাঙ্খিতভাবে তারা মা’রা যান বলে জানিয়েছেন ঢামেক পরিচালক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল। তবে এই আইসিইউ কবে নাগাদ চালু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু কোভিডের চা’প রয়েছে, সেজন্য আমরা এটা যতো দ্রু’ত সম্ভব চালু করবো।

ঘ’টনা ত’দন্তে পৃথক দুটি কমিটি গঠন: ঢামেক হাসপাতালে করোনা ইউনিটের আইসিইউতে আ’গুনের ঘ’টনায় নয় সদস্যের একটি ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর হোসেনকে।

কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্য্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিস ও ঢামেক পক্ষ থেকে আলাদা করে দুটি ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

আরেকটি কমিটি করেছে ফায়ার সার্ভিস। সংস্থাটির সদর দপ্তরের উপপরিচালক (অ্যাম্বুলেন্স) নূর হাসানকে প্রধান করে চার সদস্যের সেই কমিটি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি) দেবাশীষ বর্ধ’ন কমিটি করার ত’থ্য নিশ্চিত করেছেন।

About tanvir

Check Also

যেভাবে ভেস্তে গেল বিএনপির উদ্যোগ!

২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে দূরে ঠেলতে বিএনপির একটি অংশ অনেকদূর অগ্রসর হলেই দলের অন্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *